শিরোনাম
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...

 


মোঃ দেলোয়ার হোসেন

নীলফামারী প্রতিনিধিঃ


নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে গোপনে দাফন করার সময় তিন মাস আগে অপহৃত ইতি খাতুনের (১৯) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যা ৭ টায় উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের পানিয়াল পুকুর গ্রামে অপহরনকারী দুলাভাই কর্তৃক দাফনের চেষ্টার সময় মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


 এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে পায় ইতির দুলাভাই সহিদ শাহ ও তার পরিবারের লোকজন।

নিহত ইতি একই উপজেলার কিশোরগঞ্জ ইউনিয়নের মুসা গ্রামের মরহুম আব্দুল্লাহ চেয়ারম‍্যানের ছেলে বাহাগিলি ঘাট উচ্চ বিদ‍্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের মেয়ে। অপহরনকারী দুলাভাই সহিদ শাহ পানিয়ালপুকুর গ্রামের জাকারিয়া শাহ"র পুত্র। সে একটি ওষুধ কোম্পানির মাঠ কর্মী হিসেবে জয়পুরহাট জেলায় কর্মরত।


ইতি খাতুনের পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের বড় মেয়ে স্মৃতি খাতুনের সাথে সহিদ শাহ"র বিয়ে হয়। তারা জয়পুরহাট জেলা শহরে থাকতো। তাদের সংসারে সৌধ্য নামের সাত বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে স্মৃতি খাতুন পুত্রকে নিয়ে বাবার বাড়ি ফিরে আসে।

এ অবস্থায় গত ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারী সহিদ শাহ্ তার একমাত্র শ্যালিকা ইতিকে অপহরন করে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষে থানায় দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ ইতিকে উদ্ধার ও অপহরনকারী আসামী দুলাভাই সহিদ শাহকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরন করে।

আদালতে বিচারাধীন এ মামলায় ৬ মাস পর সহিদ শাহ জামিন পেয়ে ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর সে পুনরায় ইতিকে অপহরন করে গা-ঢাকা দেয়। এ ঘটনায় ইতির বাবা স্কুল শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম আবারো কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে। অপহৃতকে উদ্ধার ও আসামীকে গ্রেফতারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। গত ১৮ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে রংপুর মেডিকেলে একটি মেয়ের লাশ ফেলে সহিদ শাহ নামের একজন লোক পালিয়ে গেছে। মেয়েটির বাড়ি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায়। আজ বুধবার ফেসবুকে ছবি দেখে অপহৃতা ইতির বাবা নিজের মেয়েকে চিনতে পারে ও রংপুর মেডিকেলে ছুটে যায়। কিন্তু তিনি সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ দেখতে না পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। বিষয়টি কিশোরগঞ্জ থানাকে অবগত করেন।

কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইতির মরদেহ দাফনের সময় উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নীলফামারীর জেলা মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। ফরেনসিক রির্পোট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যাবে। তবে পূর্বের অপহরন মামলার সূত্র ধরে আসামীকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

এলাকার খবর