কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের নিয়ম অনুযায়ী চলছে খামার গাড়াগ্রাম সরকারী প্রাথমীক বিদ্যালয়। মানছে না সরকারী নির্দেশনা।
সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) খামার গাড়াগ্রাম সরকারী প্রাথমীক বিদ্যালয়ে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০:২৬ মিনিটেও স্কুলে প্রধান শিক্ষক নাজমুল হকের আগমন ঘটেনি। তার বিরুদ্ধে আগমন ও প্রস্থানের ব্যাপারে সচেতন অভিভাবকের অভিযোগ থাকায় দুপুর ৩:২০ মিঃ স্কুলে গিয়ে দেখা যায় স্কুল ছুটি দিয়ে সবাই চলে গেছে। কাউকে পাওয় যায়নি। প্রতিটি রুমে তালা ঝুঁলছে।
প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত স্কুল খোলার রাখার নির্দেশ থাকলেও মানছে না খামার গাড়াগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক।তার ব্যক্তিগত নিয়মে স্কুল পরিচালনা করে আসছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ব্যঘাত হচ্ছে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দিন দিন শিক্ষার প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে। বাড়তি সময় পাওয়ায় তারা আসক্ত হচ্ছে মোবাইলে বিভিন্ন গেমস খেলায়।
নাম প্রকাশ না করার এক অভিভাবক বলেন, এই স্কুলে তো বাচ্চা কাচ্ছা মানুষ হবে না। কারণ জানতে তিনি বলেন, হেড মাষ্টার নাজমুল হক স্কুলে আসে ১১ টায়।ছুটি দেয় ৩ টায়। স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যা ৯ জন। একজন সহকারী শিক্ষিকা আরজুমান সুলতানা বছরের পর বছর ধরে স্কুল আসে না।তার বেতন তুলে সবাই ভাগাভাগি করে নিতো।এ জন্য তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নাই। আর এক শিক্ষক চিকিৎসা জনিত কারণে ছুটিতে আছে। তাছাড়া এটা তো আজকের ঘটনা নয়। প্রতিদিন আড়াই টা অথবা ৩ টায় মধ্যে ছুটি হয়।
স্কুলের ৪র্থ শ্রেণীর ৪ জন শিক্ষার্থী (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন, আমাদের স্কুলের স্যার কখন আসে আর কখন যায় কোন ঠিক নাই। প্রতিদিন ৩ টার পর ছুটি দেয়।তারা বাড়তি সময় পাওয়ায় মাঠে খেলতে আসছে।
প্রধান শিক্ষক নাজমুল হককে একাধিক বার ফোন করার পরেও রিসিভ করেন নাই।
সহকারী শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমানকে ফোন দিলে রিসিভ করেননি।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার শরিফা বেগমকে মুঠোফোনে পাওয়া যায় নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-ই-আলম সিদ্দিকী সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
