কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসবে পূজা মণ্ডপগুলোতে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি চলছে।ব্যস্ত সময় পার করছে মৃৎশিল্পীরা। গত বছর শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় সারাদেশে আলোচিত কুমিল্লার নানুয়া দিঘি পাড়ের দর্পণ সংঘের পূজামণ্ডপটি।
এ বছর উপজেলার ১৪৭ টি পূজা মণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে।
উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাঃ সম্পাদক মিথুন রায় বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন- আমরা এবারও জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। খুব স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য বছরের মতোই এ বছর দূর্গা পূজা উদযাপন করা হবে। অসাম্প্রদায়িক আবহে সবাই উৎসবমুখর পরিবেশেই এখানে দুর্গোৎসবে অংশ নিবেন। উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পূজার শুরু থেকেই নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।
উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি পতিরাম রায় বলেন, উপজেলার ৯ ইউনিয়নে মোট ১৪৭ টি পূজা মন্ডপে যথাযথ ভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে। আইন শৃঙ্খলার বাহিনীর পাশাপাশি ৯ টি মনিটরিং সেল থাকবে। তারা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবে।
বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে- দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে পূজা প্রস্তুতির শুরু থেকেই মণ্ডপগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিমা তৈরীর কাজও শেষ পর্যায়ে। ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ রাজীব কুমার রায় নিশ্চিত করে বলেন, এবার সুন্দর পরিবেশে আমরা পূজা উদযাপনের প্রত্যাশা করছি। উপজেলার ১৪৭ টি পূজা মন্ডপে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলয় থাকবে এবং বিশেষ বিশেষ কিছু পূজা মন্ডপ গুলোতে নির্ধারিত অতিরিক্ত পুলিশ ও আনছার বাহিনী সার্বিক নিরাপত্তার কাজে মোতায়েন থাকবে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন বাবুল বলেন, উপজেলা ৯ ইউনিয়নে ১৪৭ টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করা হবে। উপজেলা প্রশাসন সার্বিক নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-ই- আলম সিদ্দিকী বলেন, আমরা ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অনুষ্ঠান করেছি। এ বছর উপজেলায় ১৪৭ টি পূজা মন্ডপে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ ভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন হবে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বরুপ প্রতিটি মন্ডপে ৫০০ শত কেজি করে চাল বিতরণ শুরু করেছি।
পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,কেউ যেন কোন উস্কানী বা গুজব ছড়াতে না পারে এবং জেলার প্রতিটি পূজা মন্ডপে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে চোঁখে পড়ার মতো এবং টহলে থাকবে র্যাব ও বিজিবি।
জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসীর আরেফীন বলেন, জেলায় মোট ৮৭০ টি পূজা মন্ডপ আছে। আশা করছি কোন রকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই দুর্গোৎসব পালন করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপ গুলোতে সিসি ক্যামেনায় আওতায় রাখার নির্দেশনা দেয়া আছে। আইন শৃঙ্খলার কাজে পুলিশের পাশাপাশি আনছার ও বিজিবি সদস্য থাকবে এবং টহল পুশিশ ও থাকবে।মাননীয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার ৫০০ কেজি করে প্রতিটি মন্ডপে বিতরণের কাজ চলছে।
পূজা উদযাপনের বিষয়ে কথা হলে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) মাননীয় সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান আদেল বলেন, মন্ডপ গুলোতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আনছার, র্যাব ও বিজিবির টহল হিসাবে কাজ করবে।
