মোঃ সবুজ মিয়া
কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার রণচনডী ইউনিয়নের বদি গ্রামের মৃত্যু জয়নাল আবেদীনের ছেলে আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে জাল দলিলের নায়ক শিরোনাম সংবাদটি মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রনীত ভাবে অপ্রচার করা হয়েছে। যাহা মানহানী কর।সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে আব্দুল মজিদ নিজে দলিল লিখে এবং সাব রেজিষ্টার হয়ে স্বাক্ষর করে।আরো উল্লেখ করা হয়েছে যাবতীয় সীল তৈরী করে সে এখন জাল দলিলের মেশিন।
তারিখ উল্লেখ ছাড়াই সাপ্তাহিক অপরাধ বিচিত্রায় উল্লেখ করা হয়েছে জাল দলিলের নায়ক আব্দুল মজিদের ছোট ভাই আজিজুল হক অভিযোগ করেছেন,আমরা চার ভাই মূর্খ হওয়ায় তার ভাই আব্দুল মজিদ জমি জালিয়াতি করে নিজে দলিল লিখে নিজে রেজিষ্টি করে নিয়েছেন অথচ আজিজুল হক এ রকম কোন তথ্য বা মন্তব্য এবং অভিযোগ কোথাও বলেনি বা করেনি।
আজিজুল হকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,বাবার টাকার প্রয়োজন হলে আমার ভাই আব্দুল মজিদ বাবার নিকট থেকে ২৩ শতক জমি ক্রয় করে। এটা আমরা বাকি ভাই গুলো সবাই জানি। এ জমির উপর আমাদের কারো কোন অভিযোগ নাই। অপরাধ বিচিত্রার মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে তিনি বলেন, আমি এই পেপারের নাম জীবনে শুনি নাই এবং এই সাংবাদিকের সাথে কোনদিন দেখাও হয় নাই। তিনি আমার ও আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করেছেন। এ জন্য আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।
জাল দলিলের বিষয়ে আব্দুল মজিদের কাছে জানতে তিনি বলেন, আমি আমার বাবার নিকট থেকে সাব কবলা মূলে দুই দলিলে জমি ক্রয় করেছি। আনোরমারী বাজারে যাওয়ার পরে দেখি আমার ছবি দিয়ে একটি পেপার কাটিং করা হয়েছে। পরশুদিন সকালে লোক মুখে জানতে পারি আমি নাকি জাল দলিলের নায়ক।দলিল জাল হয় এটা আমার জানা নাই।এই মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের আগে সাংবাদিক সুফিয়ান তার ভিজিটিং কার্ড আমার হাতে দিয়ে ১০,০০০/(দশ হাজার) টাকা দাবী করে। কিসের টাকা এবং কেন দিবো এহেন প্রতিবাদ করায় আমাকে বিভিন্ন হুমকি ধমকি দিয়ে বলে টাকা না দিলে তোর বিরুদ্ধে পেপারিং হবে। আমি বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে চলে যাই। গত ২ তারিখে এলাকার অনেকের কাছে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদের পেপার কাটিং দেখতে পেরে আমার ভাইয়ের সাথে কথা বলি নিশ্চিত হলাম সে কোন অভিযোগ করে নাই।দলিল মূলে ক্রয়কৃত মোট জমির পরিমান ৯৪ শতক যা আমার ভোগ দখলীয় আছে। আমি একজন সম্মানী মানুষ। আমার বিরুদ্ধে এহেন সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।
উল্লেখিত জমির তফসিল বর্ণনা মতে ও কবলা সূত্রে জানা যায়, মৌজা- বদি, দাগ নং- ৪৫৪৯, খতিয়ান নং-৭৩৬, দলিল নং-৩০৫৮, তারিখ-১৪/৯/০৬, জমির পরিমান -১৫ শতক। অপর আর একটি দলিল সূত্রে জানা যায়, মৌজা-বদি, দাগ নং-৪১০৩, খতিয়ান নং-৬১৪, দলিল নং- ৩৪৬৪, তারিখ-১৫/৬/১০, জমির পরিমান-৮ শতক। উভয়ই জমির দাতা আমার পিতা জয়নাল আবেদীন পিতা মৃত্যু কছিমুদ্দিন।
আমার বাবার নিকট থেকে দুই দলিলে ২৩ শতক সহ ক্রয়কৃত মোট ৯৪ শতক জমি ভোগ দখল করে আসিতেছি।
নীলফামারী প্রতিনিধি তার সাপ্তাহিক অপরাধ বিচিত্রায় দলিল নং উল্লেখ করেছেন ৭৩২,৫১৬০,১১৩৭৭,৯০৬,১৮৯৮,৩১১৮, ৮৬৫৭,৩০৪০,১৫৫৯,৭০৯০,৮৪২, ৫৭৪৯,৮৫৯০,৫৫৪০,৬৫৩২,১৩৭৮৩,৫৯৯, এবং ১৫৯৪ এই সকল দলিল নাম্বারে আমার কোন জমি নাই। যাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণীত। আমাকে হেয়পতিপন্ন করার একটা ষড়যন্ত্র।
তিনি আমার স্ত্রী আনজুয়ারার বিরুদ্ধে বাজে ও অশালীন কথা উল্লেখ করেছেন। আমার স্ত্রী লোভী কুক্রী ও বাঘিনী ইত্যাদি বলে মন্তব্য করেছেন। আমার স্ত্রী একজন সহজ সরল মনের মানুষ। যা এলাকার সবাই তাকে ভালো হিসাবেই জানে।
এলাকা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ আব্দুল মজিদ ঐ জমি ভোগ দখল করে আসিতেছে। জাল দলিল করে জমি নিয়েছে এ রকম কোন ঘটনা আমরা শুনি নাই। তাছাড়া বর্তমান যুগে জাল দলিল হয় এটা বোধগম্য নয়। একই এলাকার আনারুল ইসলাম বলেন, আমার জানা মতে ঐ জমি তার বাবার কাছ থেকে কিনে নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে যে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এ বিষয়ে জানতে প্রতিনিধির সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
