মোঃ সোহাগ হাসান
কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
হামরা গরীব মানুষ।গরীবের হক ও মারি খায় নেম্বার চেয়ারমেন। ঈদ আসলে সরকার ১০ কেজি করি চাউল দেয়। এবার ঈদে ৬ কেজি করি চাউল পাইনো। ঠিক এভাবেই আক্ষেপে কথা গুলো বলেছিল নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের কান্দুরার মোড়ের মৃত্যু জয়নাল ইসলামের স্ত্রী অমিচা বেগম।
বুধবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ১২ টায় সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাজীরহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ভিজিএফ চাল বিতরণের কার্যক্রম চলছে। ওয়ার্ড ভিত্তিক পৃথক পৃথক বিতরণ করা হচ্ছে।
কাছে গিয়ে চোঁখে পড়লো ভিন্ন দৃশ্য। এ যেন লুটের মুল্লুক চলছে।দেখার কেউ নাই। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের একই চিত্র। চার(৪) জনের স্লিপ জমা নিয়ে চাল দেয়া হচ্ছে ১ বস্ত (৩০) কেজি। আবার পাশে আর একটি পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায় পাচঁ( ৫) জনে ১ বস্তা।
ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের হাজীরহাট গ্রামের টন্না, জাহেদা,নালো ও মনো সহ অসংখ্য সুবিধাভোগী অভিযোগ করে বলেন, হামরা চাউল পাবার কথা ১০ কেজি কিন্ত হামাক ৪ জনকে দিল ১ বস্তা। বাকী চাউল গেল কোটে?
একই অভিযোগ করেন ৮ নং ওয়ার্ডের সিংহ ভাগ সুবিধাভোগী।তারা বলেন হামার ওয়ার্ডে পাচঁ (৫ )জন মিলে এক বস্তা চাউল দেয়ছে। এই ৬ কেজি চাউল না নেলে কি হইবে? ইউপি সদস্যের ভয়ে মুখ খুলতে রাজী হননি অনেক সদস্য। তারা বলেন, নেম্বার জানলে পরে হামার নাম কাটি দিবে।
৯ নং ওয়ার্ডের ও একই চিত্র। পোড়াকোট ওয়ার্ডের মমিনুর বলেন, ভ্যানে করে একেক জন ৮/১০ বস্তা চাউল নিয়ে গেল। এগুলো চাউল পাইকার নিয়ে গেল। তাদের কাছে স্লিপ গুলো বিক্রি করছে। আর আমাদের গরীব মানুষের হক মারি দিলো।আমরা ৪ জন মিলে এক বস্তা চাউল পাইলাম।
পুটিমারী ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের সদস্য এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্যগণ উপস্থিত থেকে জনপ্রকাশ্যে এতো বড় অনিয়ম করার সুযোগ পায় কিভাবে? এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের।
এ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করার হলে কোন ইউপি সদস্য ফোন গ্রহণ করেন নি।
পুটিমারী ইউনিয়নে মোট সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৩৩৩২ জন। প্রতি সুবিধাভোগী ১০ হারে ভিজিএফ (চাল) হারে বরাদ্দ অনুযায়ী মোট ৩৩.৩২০ মেট্রিন টন বিতরণের নিয়ম থাকলেও তা মানছে না
এসব অনিয়মের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে পুটিমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সায়েম লিটন কোন কথা বলতে রাজী হোননি।
চাল কম দেয়ার অভিযোগটি নিশ্চিত করে
ট্যাগ অফিসার (একাডেমিক সুপারভাইজার) হাবিবুল্লাহ বলেন, ৪/৫ জন মিলে এক বস্তা চাল দেয়ার অভিযোগ আমি ও পেয়েছি। আপনার সামনে এতো বড় অনিয়ম হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন,আমি চেয়ারম্যান সাহেবকে বলছি। উনি বলছে মাষ্টারোলে অনেক সুবিধাভোগীর নাম আছে বিধায় চাল ভাগ করে দেয়া হচ্ছে। অথচ মাষ্টারোল আগেই তালিকা ভুক্ত করে রাখা হয়েছে।যা প্রতিটি নামের পাশে ১০ কেজি চাল উল্লেখ আছে এবং তার পাশে টিপসহি নেয়া হলেও চাল দেয়া হচ্ছে ৬ /৭ কেজি।
কথা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, ইউনিয়ন ভিত্তিক বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ করার নির্দেশনা দেয়া আছে। তবে কোন অনিয়ম থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
