নিজস্ব প্রতিবেদক
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সিঙ্গেরগাড়ী জহুরিয়া শরিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন যাবৎ অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের সিঙ্গেরগাড়ী জহুরিয়া শরিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা রুনু দীর্ঘ দুই বছর যাবৎ বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পাঠদান ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহ হচ্ছে। এভাবে একটা প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক ছাড়া চলতে পারে না।
অভিযোগকারী গোলাম মোস্তফা জানান, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকে না অথচ তার হাজিরা খাতায় সহি স্বাক্ষর ঠিক থাকে। তিনি রাতের আধারে অফিস সহায়কের মাধ্যমে হাজিরা খাতায় সহি স্বাক্ষর করেন। তার আপন চাচা অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ার সুবাদে এ সব অনিয়ম করার সুযোগ পেয়েছেন এবং অনুপস্থিত থাকার পরে ও বেতন ভাতা ঠিকই উত্তোলন করে নিচ্ছেন।
এ সমস্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে গত ৬ নভেম্বর-২২ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।যার অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দপ্তরে ও প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, গত ৩০ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। অথচ তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় নাই। আমরা কার উপর ভরসা বাচ্চা পড়াবো।
একই এলাকার আজিজুল ইসলাম জানান, একটি পরিবার যেমন অভিভাবক হীন চলতে পারে না ঠিক অনুরুপ ভাবে এতো বড় একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষক ছাড়া চলতে পারে না। তিনি উপস্থিত না থাকায় শিক্ষক শিক্ষার্থী কারো কাছে জবাবদিহিতা থাকে না। তার আপন চাচা সভাপতি হওয়ায় তিনি এই অনিয়ম করার সুযোগ পাচ্ছেন। এসএসসি পরীক্ষা চলছে অথচ তিনি নাই। তার কি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। আমরা বাচ্চা কার ভরসায় বিদ্যালয়ে পাঠাবো। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এভাবে গুনগত ও মানসম্মমত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক ও এলাকাবাসী বলেন, চাচা ভাতিজা মিলে স্কুল টা ধ্বংস করলো। এর কোন প্রতিকার নাই। আমরা এলাকাবাসী মুখ খুলতে পারি না।বাচ্চার উপবৃত্তি থেকে নাম বাদ দেয়ার ভয়ভীতি দেখায়।প্রধান শিক্ষক অনেক টাকা ঋণী বিধায় বিদ্যালয়ে আসতে পারে না।তার চাচা সভাপতি হওয়ায় রাতে পিয়নের মাধ্যমে হাজিরা খাতা সই করেন। অন্য সভাপতি হলে অবশ্যই হাজিরা খাতায় এ্যাপসেন করে দিত।
মুঠো ফোনে কথা হলে প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা রুনু বলেন, আমি প্রতিষ্ঠানের কাজে বাহিরে আছি। বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত কিছু সমস্যা আছে তাছাড়া আমি ঢাকায় আছি। এর মধ্যে ফিরবো।
সভাপতি আবু রায়হান'র সাথে কথা হলে তিনি বলেন, উনি স্কুলের কাজে ঢাকায় আছে।নিয়মিত অনুপস্থিত থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সে ছুটিতে আছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এটিএম নুরুল আমিন শাহ অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমি লিখিত অভিযোগ পেয়ে স্কুলে গিয়ে তাকে উপস্থিত পাওয়া যায়নি। হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত উল্লেখ করে স্বাক্ষর করে এসে তাকে শোকজ ও করেছি। তিনি মেডিকেল থেকে অসুস্থ্য জনিত সনদ নিয়ে জবাব ও দিয়েছেন। তিনি
দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার পরে ও বেতন ভাতা উত্তোলন করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বলতে পারবো না। বেতন শীটে ও আমি স্বাক্ষর করি না। তার আপন চাচা সভাপতি। স্থানীয় কমিটির ব্যাপার।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, লিখিত অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছে।মাধ্যমিক অফিসারের সাথে আলোচনা করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা শিক্ষা অফিসার হাফিজুর রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে কোন সময় তদন্ত কমিটি গঠন করবে এবং আপনারা ও জানতে পারবেন।
