মোঃ সবুজ মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে এক অসহায় নির্যাতিত মহিলা নিরাপত্তা চেয়ে রাষ্ট্র ও উপজেলা প্রশাসনের নিকট নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত।
শুক্রবার (১১ আগষ্ট) বিকাল সাড়ে ৪ টায় তার নিজ বাসায় মুশা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানা যায়, মোছাঃ তহমিনা বেগম উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেশবা কলেজ পাড়া গ্রামে মৃত্যু আব্দুস সাত্তারের সহধর্মিনী। স্বামীর মৃত্যুর পর দুটি ছেলে সন্তান নিয়ে মানবতার জীবনযাপন করে আসছিল।বিভিন্ন জনের সহযোগীতায় গত ০১ জুলাই ২০০৭ ইং তারিখে উপজেলা শিক্ষা অফিসে অস্থায়ী ভিত্তিতে অফিস সহায়কের কাজ নেন। ভালোই চলছিল তার সংসার। নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করাকালীন কর্তৃক পক্ষ বিবেচনা করে গত ০১ জানুয়ারী ২০১৯ ইং তারিখ তার চাকুরী স্থায়ী করণ করা হয়।
চাকুরীর সুবাদে মুশা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল ইসলামের সাথে তার পরিচয় হয়। এক সময় হাবিবুল ইসলাম তাকে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসে। তিনি দুটি ছেলে সন্তানের কথা ভেবে তার প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। থেমে থাকে নি প্রেমিক হাবিবুল ইসলাম। প্রেমে রাজী না হওয়ায় এক পর্যায়ে ছেলে দুটিকে নিজের ছেলে হিসাবে মেনে নেয়ার শর্তে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখায়। বিধবা মহিলা তার মিষ্টি কথায় বিশ্বাস করে রাজী হয়ে যায়। মিথ্যা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিগত ১৪ বছর যাবৎ বিভিন্ন জায়গায় ও ভোক্তভোগীর বাসায় ধর্ষণ করে আসিতেছে। তহমিনা বেগম নিরুপায় হয়ে তার সব নির্যাতন সহ্য করে আসছিল। ভুক্তভোগী তহমিনা বেগম প্রেমিক হাবিবুল ইসলামকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি টালবাহানা শুরু করে দেয়। এক পর্যায়ে তহমিনা বেগম তার সাথে সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। কিন্ত দুষ্ট প্রেমিক আবার ও তাকে প্রেমের ফাদেঁ ফেলে ধর্ষণের মতো জঘন্যতম অপরাধ চালিয়ে আসছিল।সর্বশেষ গত ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ ইং তারিখে রাত অনুমান ৮ টায় নির্যাতিতের বাসায় ধর্ষণের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করিলে স্থানীয় জনতা তাদের হাতে নাতে আটক করে স্থানীয় থানা পুলিশে কাছে সোপর্দ করে। পুলিশ নির্যাতিতের বয়ান নিয়ে হাবিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে। বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান আছে।অসহায় এই মহিলা বিচারের মুখোমুখী হয়ে বিজ্ঞ আদালতের কাছে মুখ চেয়ে আছে। ভুক্তভোগী তহমিনা বেগম প্রতিদিন তার কর্মস্থলে যায়। সেই সুযোগ বুঝে প্রধান শিক্ষক হাবিবুল ইসলাম রাস্তাঘাটে তার পথ রোধ করে উত্ত্যোক্ত, হয়রানী, হুমকী ধমকি সহ মামলা তুলে নেয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকী দিয়ে আসছে। তিনি অফিস শেষে বাড়ী ফেরার সময় হলে অভিযুক্ত হাবিবুল ইসলাম তার অপেক্ষায় ওৎপেতে বসে থাকে। তিনি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক হাবিবুল ইসলামের সাথে বিজ্ঞ আদালতের আমার মামলা চলমান।মামলা নং ১৫৭/২২ এখন তার সাথে কোন সম্পর্ক নাই।তিনি প্রতিদিন আমার পথ রোধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। মামলা তুলে নেয়ার জন্য নানা রকমের ভয়ভীতি দেখায়। আমি একজন অসহায় মহিলা আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন পথ নাই। আমি একজন রাষ্ট্রের ছোট কর্মচারী হিসাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যথাযথ কর্তৃপক্ষ এবং উপজেলা প্রশাসনের নিকট আমার ও পরিবারের নিরাপত্তা চাই।হাবিবুল ইসলাম যে কোন সময় আমার বড় ধরণের ক্ষতি সাধন করতে পারে। আমি নিরুপায় হয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করছি।
এ বিষয়ে মুশা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল ইসলাম সাথে ফোনে কথা বলার চেষ্টা করলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি,
কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সহকারী শিক্ষা অফিসার মোতাহার হোসেনের সাথে কথা চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মদ বলেন, আমি এ বিষয়ে কোন জানি না। লিখিত অভিযোগ ও পাইনি।
