মোঃ দেলোয়ার হোসেন
কিশোরগঞ্জ-নীলফামারী
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারীর-৪ সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ নির্বাচনী আসনে বিএনপি'র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম মনোনয়ন প্রত্যাশী। ভোটারের মাঝে বইছে ভোটের হাওয়া।ফলে এবার এই আসনটি নিয়ে ও চলছে অনেক হিসাব-নিকাশ। ১৯৯৬ সালে ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ থেকে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত হন সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসাইন মুহাম্মাদ এরশাদের ভগ্নিপতি ড.আসাদুর রহমান।
২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চার দলীয় জোটের (বিএনপি) সৈয়দপুর থেকে নির্বাচিত হন প্রয়াত আমজাদ হোসেন সরকার। ২০০৮ সালে ৯ ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কর্নেল প্রয়াত মারুফ সাকলান। এরপর থেকে আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে চলে আসে। ফলে ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারী বিতর্কিত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টি সৈয়দপুর থেকে আলহাজ্ব শওকত চৌধুরী।
নীলফামারী-৪ আসনের অপর অংশটি হচ্ছে বিএনপি'র রাজনৈতিক জেলা হিসেবে খ্যাত সৈয়দপুর উপজেলা।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য, কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের কৃতি সন্তান, প্রয়াত খয়ের দারোগার একমাত্র মেয়ে বিলকিস ইসলাম।তিনি বিএনপি'র রাজনীতির সাথে প্রায় ৩৫ বছর ধরে সক্রিয় আছেন। বিগত চার দলীয় জোট সরকারের আমলে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন।
তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। উপজেলার নিতাই ইউনিয়নে পানিয়ালপুকুর গ্রামে বেগম খালেদা জিয়া নামীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার করেন।যার একাডেমিক ও পাঠদান স্বীকৃতি সহ এমপি ও ভুক্ত করেছেন। পরবর্তিতে রাজনীতির রোষানলে নাম করণ পরিবর্তন করা হয়েছে।উপজেলায় কোন মহিলা কলেজ ছিল না।
এ জন্য তিনি একটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন।
স্কুল, কলেজ, ব্রীজ কালভার্ট সহ তিস্তা সেচ প্রকল্পের প্রায় ৩ শ কোটি টাকার কাজ করেছেন। বিএনপির আসন হিসেবে দাবী করে একাধিক তৃণমূল নেতা বলেন, সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ আসনটি এক সময় বিএনপির দখলে ছিল আবারও অবাধ সুষ্ট ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমরা জয়লাভ করবো।
এরপর থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিএনপির হাতছাড়া হয়ে যায় এ আসনটি।২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেনি। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করলেও শেষে ভোট বর্জন করেন।
বিএনপি এবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।ফলে ওয়ার্ড থেকে বিভাগ পর্যন্ত সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দল গোছানোর কাজটি ইতিমধ্যে সেরে ফেলেছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচী পর্যন্ত মিটিং-মিছিল-আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন দলটি। তবে অন্যান্য আসনের তুলনায় নীলফামারী-০৪ আসনে প্রয়াত সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেন সরকারের মৃত্যুর পর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম হাল ধরার জন্য নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষে বিএনপির প্রতিটি কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণ করতে দেখা গেছে।তবে আসনটিতে (বিএনপি) থেকে মনোনয়নের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন এমনকি প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন তিনি। বিএনপি'র চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দলের নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিটি কর্মসুচীতে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।তিনি স্বার্বক্ষণিক তৃণমূল নেতাকর্মীর খোজঁখবর রাখেন এবং চলমান কর্মসূচী গুলোতে উপস্থিত থাকার উদ্বৃত করেন।
দলটির তৃণমূল থেকে একাধিক সূত্র জানায়, বিলকিস ইসলাম কিশোরগঞ্জের মেয়ে।তিনি একজন ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। দলের কাছে আমাদের দাবী তাকে মনোনয়ন দিলে কিশোরগঞ্জের মানুষ হিসাবে খেয়ে না খেয়ে ভোট দিবো।
নিতাই ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, বিলকিস ইসলাম আমাদের ফুফু। আমরা তৃণমূল বিএনপি আশা করি তাকে মনোনয়ন দিলে আসনটি উপহার দিতে পারবো। কিশোরগঞ্জ থেকে আমরা কখনো দলীয় এমপি পাই নাই। এটা আমাদের প্রাণের দাবী।
একই দাবী করে বাহাগিলি ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি আতাউর রহমান আতা বলেন, দীর্ঘ দিন থেকে দেখে আসছি বিলকিস ইসলাম সৈয়দপুর কিশোরগঞ্জে প্রতিটি কর্মসূচীতে তাকে দেখা যায়।তিনি ঢাকা থেকে এসে তৃণমূল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ করে কর্মসূচী গুলো দায়িত্বের সাথে পালন করেন। দল তাকে মনোনয়ন দিলে জয়লাভ করবে ইনশাআল্লাহ।
কথা হলে কিশোরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক একেএম তাজুল ইসলাম ডালিম বলেন, আমরা এক দফা দাবী নিয়ে চলমান আন্দোলন চালিয় যাচ্ছি। আমি ব্যক্তিগত ভাবে আশা করি দল এবার মনোনয়ন দিতে ভুল করবে না। প্রতিটি মিটিং মিছিলে খুব সহজেই আমরা বিলকিস ইসলামকে পাশে পাই।দল তাকে মনোনয়ন দিলে ভুল করবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি সদস্য অধ্যাপক শওকত হায়াৎ শাহ বলেন, বিলকিস ইসলাম বিএনপি'র জন্য একজন নিবেদিত মানুষ। দল তাকে মনোনয়ন দিলে কোন রকমের দ্বিধা সংকোচ ছাড়াই এক যোগে সবাই তার কাজ করবে এবং আসনটি উপহার দিতে পারবো।
এ বিষয়ে কথা বলে বিএনপি'র মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সাংসদ এই প্রতিবেদককে বলেন, বিএনপি যৌত্তিক দাবী নিয়ে চলমান যে কর্মসূচী করে যাচ্ছে তা হলো সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। বিগত ১০/১২ বছর থেকে সাধারণ ভোটার স্থানীয় এবং সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারে না।
এ দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে না। আমি নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) সংসদীয় আসনের বিএনপি'র একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে বলতে চাই নির্বাচনের পরিবেশ হলে দল আমাকে মনোনয়ন দিবে এটা আমার বিশ্বাস।
