শিরোনাম
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...

কিশোরগঞ্জে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসকের বিচার দাবি

 



মোঃ সবুজ মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার:


নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে মা ও শিশু ক্লিনিক এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সন্তান প্রসব করাতে গিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে লিমা আক্তার (২২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।বর্তমানে নবজাতকের পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বিভাগের আইসিওতে ভর্তি রয়েছে। চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ স্বজনসহ এলাকাবাসীর।


মঙ্গলবার (০২ সেপ্টেম্বর) সকালে কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোড় এলাকায় মা ও শিশু ক্লিনিক এন্ড  ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনাটি ঘটে। প্রসূতির স্বাভাবিক সন্তান প্রসব করাণ ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক ও পুটিমারি ইউনিয়ন কালিকাপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোছাঃ হাবিবা বিনতে ইসলাম। 



স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালের দিকে পুটিমারি ইউনিয়নের মিস্তিপাড়া গ্রামের নগেন আলীর মেয়ে লিমা বেগমের সন্তান প্রসব ব্যাথা উঠলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোড় এলাকার মা ও শিশু ক্লিনিক এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক মোছাঃ হাবিবা বিনতে ইসলাম কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই প্রসূতিকে নিয়ে যায় ডেলিভারি রুমে। কিছুক্ষণ পরে একটি ইনজেকশন দিলে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন লিমা বেগম।তবে সন্তান প্রসব হওয়ার পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে তা বন্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি চিকিৎসক বলে অভিযোগ রয়েছে স্বজনদের পরে প্রসূতিকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বললে স্বজনরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্লিনিক থেকে সরে পড়েন দায়িত্বরত চিকিৎসক মোছাঃ হাবিবা বিনতে ইসলাম। 




স্থানীয়রা জানান, মা ও শিশু ক্লিনিক এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার অনুমতি থাকলেও তারা নিয়মিত প্রসূতির সন্তান প্রসব করায়।এতে প্রসূতি ও নবজাতক শিশুর জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। এর আগেও একটি শিশুর ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে এ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে। 


লিমা বেগমের বাবা নগেন আলী বলেন আমার মেয়ের গতকাল ভোরবেলা সন্তান প্রসব ব্যাথা উঠলে আমরা তাকে মা ও শিশু ক্লিনিক এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসকের অবহেলার কারণে আমার মেয়ের সন্তান প্রসব করার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে সেখানের চিকিৎসক মোছাঃ  হাবিবা বিনতে ইসলাম সামলিয়ে উঠতে না পারলে কোন ধরনের  রেফার ছাড়ায় আমার মেয়েকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। এতে আমরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে রাস্তায় তার মৃত্যু হয়।আমার মেয়ে চিকিৎসকের অবহেলার কারণে মৃত্যু হয়েছে আমি চিকিৎসক মোছাঃ হাবিবা বিনতে ইসলামের বিচার চাই।




এবিষয়ে পুটিমারি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোছা: হাবিবা বিনতে ইসলাম বলেন, আমার ক্লিনিকে কোন সন্তান প্রসব করানোর অনুমতি নেই। ক্লিনিকের সঙ্গে আমার বাসা সেখানে আমি প্রসূতির নরমাল ডেলিভারির কাজ করি।

গতকাল সকালে দিকে যে রোগীকে নিয়ে আসা হয়েছিল তার প্রসব ব্যাথা ছিল। এজন্য তাকে কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা করিনি,পরে সকালে তার ডেলিভারি করাতে গিয়ে সন্তান প্রসব করার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। এ সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ আমি সামলাতে না পারলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলি। যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তবে আমি চেষ্টার কোনো ত্রুটি করিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করি। 




কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: নীল রতন দেব বলেন মা ও শিশু ক্লিনিক এন্ড ডিজিটাল  ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমতি নিয়ে সেখানে সন্তান প্রসব  করানোর কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কোনো নার্স কিংবা কেউ অনুমতি ছাড়া নিজ বাড়িতে ব্যবসায়িকভাবে প্রসূতিদের সন্তান প্রসবের কাজ করতে পারবে না। আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। আশা করি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এলাকার খবর