নীলফামারী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন মোনালিশা আক্তার (২১) নামে ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর থেকে তিনি স্বামী আসিফ উজ-জামানের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন।
মোনালিশা আক্তার একই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের মাইদুল ইসলামের মেয়ে। অপরদিকে, আসিফ উজ-জামান গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের সয়রাগন্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফতাবুজ্জামানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও মেয়ের পরিবারের দাবি, একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সূত্র ধরে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পড়াশোনার কারণে রংপুরে অবস্থানকালে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। পরে উভয়ের সম্মতিতে গত ১০ মার্চ ২০২৪ তারিখে রংপুরে নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেভিট সম্পন্ন করেন এবং পরদিন ১১ মার্চ ২০২৪ তারিখে ১০ লাখ ১০১ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে কাজীর মাধ্যমে বিয়ে নিবন্ধন করেন।
মোনালিশার অভিযোগ, বিয়ের বিষয়টি জানতে পেরে আসিফের পরিবার কৌশলে তাকে বাড়িতে নিয়ে এসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। প্রায় এক সপ্তাহ স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তিনি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এতে পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে আসিফকে অন্যত্র সরিয়ে দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয়দের সহায়তায় স্বামীর খোঁজ না পেয়ে বৃহস্পতিবার স্বামীর বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন।
মোনালিশা আক্তার বলেন, “আমরা দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে নিজেদের সম্মতিতে বিয়ে করেছি এবং গোপনে সংসার করছিলাম। আমার স্বামীর পরিবার তাকে লুকিয়ে রেখেছে এবং আমার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। আমি আমার স্বামীকে ফিরে পেতে এবং স্ত্রীর অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এখানে অনশনে বসেছি।”
তিনি আরও বলেন, “বাড়িতে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হলেও আমি জোর করে ভেতরে ঢুকেছি। আমি আমার অধিকার চাই।”
ঘটনার বিষয়ে আসিফ উজ-জামানের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তার বাবা আফতাবুজ্জামান বলেন, “আমি বর্তমানে স্কুলে আছি এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ। পরে এ বিষয়ে কথা বলবো।”
এদিকে মাগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান মিঠু জানান, বিষয়টি তিনি ছেলের পরিবারের কাছ থেকে শুনেছেন। যেহেতু মেয়েটির বাড়িও একই এলাকায়, তাই বর্তমানে সে স্বামীর বাড়িতে নিরাপদে রয়েছে। দুই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান।
