শিরোনাম
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিলসহ একাধিক প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর




নিজস্ব প্রতিবেদক,

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনায় করদাতাদের স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, ‘কালো টাকা সাদা করার’ সুযোগ প্রত্যাহার এবং ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন সনদের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


সোমবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব সংশোধনী প্রস্তাব, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে প্রথমে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন।


বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, নরমালি দাবিটা বিরোধী দল থেকে হয়ে থাকে। আমি আপাতত ফিজিক্যালি না হলেও মানসিকভাবে তাদের পাশে গিয়ে কথা বলতে চাই।


করদাতাদের স্বস্তি দিতে ব্যক্তিগত আয়কর অব্যাহতির সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি যথাক্রমে এই সীমা ৪ লাখ, সাড়ে ৪ লাখ এবং ৫ লাখ টাকা করার সুপারিশ করেন।

স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শনের বিধান নিয়ে জনমনে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি প্রকৃত মূল্যে নিবন্ধন না হওয়ার কারণে করদাতাদের হয়রানি কমাতে এ বিধান আনা হয়েছিল। তবে এটি ‘কালো টাকা সাদা করার’ সুযোগ হিসেবে সমালোচিত হওয়ায় তিনি অর্থমন্ত্রীকে এ বিধান প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।


এ ছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা, দলিল নিবন্ধন এবং সম্পত্তি নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব নিয়েও জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সেটিও প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন।


বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বর্তমান ১০ শতাংশ কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এর বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ভাষা শিক্ষা ও ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব স্থাপন এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ সম্প্রসারণের শর্ত আরোপের কথা বলেন। এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।


পার্বত্য ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য কর-সুবিধা আরও সম্প্রসারণেরও প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে পার্বত্য জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য যে-সব করমুক্ত সুবিধা রয়েছে, তা ব্যবসা, কৃষি ও অন্যান্য আয়ের পাশাপাশি বেতনের আয়েও প্রযোজ্য করা উচিত। একই সুবিধা সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।


চিংড়িশিল্পের বিকাশ ও রফতানি বাড়াতে ফিড অ্যাডিটিভ, প্রোবায়োটিকস, ভিটামিন, মিনারেলস এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর আরোপিত শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পের বিভিন্ন কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।


তিনি বলেন, ওষুধ ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত মধু, পিইটি রেজিন, পিভিসি, কোল্ড-রোলড শিট, কপার, অপ্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের ওপর প্রস্তাবিত শুল্ক কমানো প্রয়োজন। একই সাথে স্থানীয়ভাবে এলইডি ল্যাম্প ও প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড বিল্ডিং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধার মেয়াদ ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেন তিনি।


ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করারও প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সার্চ ইঞ্জিন ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বিজ্ঞাপন দিতে উচ্চ ভ্যাটের কারণে অনেকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্থ পরিশোধ করছেন। ভ্যাট কমানো হলে সরকার যেমন রাজস্ব পাবে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পরিশোধে উৎসাহিত হবেন।


এ ছাড়া স্বর্ণ, প্লাটিনাম, হীরা ও রূপার অলঙ্কারের ওপর বিদ্যমান কর ও ভ্যাট পুনর্নির্ধারণ, বিটিআরসির সাথে টেলিকম কোম্পানির রাজস্ব ভাগাভাগির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার, মাঠ সরবরাহে ১০ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি এবং স্থানীয়ভাবে ডাবল কেবিন পিকআপ ও মাইক্রোবাস উৎপাদনে ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করারও প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।


বক্তব্যের একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সাইকেলের ওপর সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, এই প্রস্তাবটি সকল কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যতটুকু বিবেচনা করা যায়, উনি বিবেচনা করবেন।

এলাকার খবর