শিরোনাম
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...

দিনমজুর থেকে সফল উদ্যোক্তা হাজিমুল, বাঁশপণ্য যাচ্ছে ইউরোপে

 


মোঃ সবুজ মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার:

এক সময়ে অভাবের সংসারে দুমুঠো ভাতের জন্য অন্যের বাড়িতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন হাজিমুল ইসলাম। তীব্র অর্থনৈতিক সংকট আর অনিশ্চয়তা ছিল যাঁর নিত্যসঙ্গী, কঠোর পরিশ্রম আর প্রবল ইচ্ছাশক্তিতে আজ তিনি একজন স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা। তাঁর কারখানায় তৈরি বাঁশ ও বেতের নান্দনিক পণ্য এখন রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর চাহিদা মিটিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে ইউরোপের বাজারে।

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ঢেলাপীর এলাকার উত্তর সোনাখুলী ডাঙ্গাপাড়ার বাসিন্দা হাজিমুল ইসলাম। নিজের গ্রামেই তিনি গড়ে তুলেছেন ‘আরিফুল হস্ত শিল্প’ নামে একটি কারখানা।

হাজিমুল জানান, অন্যের অধীনে কাজ করার সময় থেকেই নিজে কিছু করার তাগিদ অনুভব করতেন তিনি। একদিন মাথায় আসে বাঁশ দিয়ে শৌখিন জিনিস তৈরির চিন্তা। এরপর স্মার্টফোনে ইউটিউব ঘেঁটে বাঁশের পণ্য তৈরির কৌশল ও নতুন নতুন নকশা শিখতে শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে বাড়ির পাশের বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কেটে কয়েকটি পানির মগ তৈরি করেন এবং সেগুলোর ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেন। প্রথম দিকেই অভাবনীয় সাড়া পাওয়ায় তাঁকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজিমুল তাঁর উদ্যোগকে বড় করে তোলেন। বর্তমানে তাঁর কারখানায় বাঁশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে আধুনিক ডিজাইনের মগ, নান্দনিক ট্রে, ল্যাম্পশেড, বাহারি ফুলদানি, ঘর সাজানোর শোপিস সেট, ফল বা সবজি রাখার ঝুড়ি এবং ড্রয়িংরুমের জন্য নান্দনিক সোফা সেট। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকার ও সাধারণ ক্রেতারা অনলাইনের মাধ্যমে এসব পণ্য অর্ডার করছেন। বর্তমানে বায়ারের (রপ্তানিকারক) মাধ্যমে এসব পণ্য বিদেশের মাটিতেও স্থান করে নিয়েছে।

হাজিমুল ইসলাম কেবল নিজেকেই স্বাবলম্বী করেননি, বরং এলাকার আরও ১৫ জন কর্মহীন মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। তাঁর কারখানায় বর্তমানে ১৫ জন নারী ও পুরুষ শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন।

কারখানার নারী শ্রমিক মনোয়ারা বেগম বলেন, “আগে ঘরে বসে সময় কাটত, অভাব লেগেই থাকত। এখন এখানে কাজ করে যা আয় করি, তা দিয়ে ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানোর পাশাপাশি সংসারেও অবদান রাখতে পারছি। আমাদের ভাগ্য বদলে গেছে।” আরেক শ্রমিক হেলাল উদ্দিন জানান, প্লাস্টিকের ভিড়ে তাঁর পুরনো বাঁশ ব্যবসা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু হাজিমুলের কারখানায় আধুনিক কাজের সুযোগ পেয়ে তিনি এখন সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করছেন।

সফল এই উদ্যোক্তা বর্তমানে মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় করছেন। তবে তাঁর এই পথচলা আরও সুগম করতে সরকারি প্রশিক্ষণ ও সুদমুক্ত ঋণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। হাজিমুল বলেন, “সরকারি প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা পেলে দক্ষ জনবল তৈরি এবং পণ্যের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।”

এ বিষয়ে বিসিক নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের উপ-ব্যবস্থাপক নূরেল হক বলেন, “আমরা হাজিমুলের কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব। ইতোমধ্যে তাঁকে এক লাখ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে। এই ক্ষুদ্র শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে বিসিকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা করা হবে।”

এলাকার খবর