নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেশবা গ্রামের ২ নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মো. নূর ইসলাম ওরফে বাউয়ের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সদর ইউনিয়নের ২নং কেশবা শান্তপাড়া গ্রামের মৃত বহি মামুদ এর ছেলে নুর ইসলাম ওরফে বাউ
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জনস্বার্থে নূর ইসলামকে গ্রাম পুলিশের পদ থেকে অব্যাহতি বা বরখাস্তের দাবিও জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নূর ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে বিভিন্ন সময় নারীদের নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন। এতে এলাকার সামাজিক পরিবেশ, জননিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
অভিযোগকারীরা আরও জানান, এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি, জেলে পাঠানো এবং মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। গ্রাম পুলিশের পদে থাকায় অনেকেই তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানান এলাকাবাসী।
৬ নম্বর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গ্রেনেড বাবু বলেন, গ্রাম পুলিশ মো. নূর ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সময় নারী এনে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকবার তাকে সংশ্লিষ্ট নারীদেরসহ ইউনিয়ন পরিষদে এনে শুনানি করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি তিনি আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ পেয়েছি। মঙ্গলবার রাতে তিনি নিজ বাড়িতে দুজন নারীকে নিয়ে এলে স্থানীয় কয়েকজন যুবক প্রতিবাদ করেন। এ সময় তাদের ভয়ভীতি দেখানো ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঘটনাটি স্থানীয়রা কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুরকে মৌখিকভাবে অবহিত করেছেন বলেও জানান ইউপি চেয়ারম্যান।
ওসি আব্দুল গফুর বলেন, গ্রাম পুলিশ মো. নূর ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে গ্রাম পুলিশ মো. নূর ইসলাম বলেন, মিতু নামে ওই নারী সম্পর্কে আমি জানি। তিনি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে জানলেও আমি তাকে বিয়ে করেছি।
তিনি দাবি করেন, সদর ইউনিয়নের কাজী রায়হানের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কাজী রায়হান বলেন,এ ধরনের কোনো বিয়ের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
নূর ইসলাম আরও বলেন, আমি আমার নিজ জায়গায় যা করব, তাতে কারও কিছু করার নেই। কারও সাহস থাকলে কিছু করে দেখাক।
তার এই বক্তব্যের পর এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে বিয়ের দাবির সমর্থনে তিনি কোনো কাবিননামা বা আনুষ্ঠানিক নথি দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব আরিফুর রহমান বলেন,অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে
